April 16, 2026, 5:30 pm

পল্লবীতে যুবদল নেতা হত্যা রাজনৈতিক কোন্দল ও চাঁদাবাজি–মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে খুন- র‍্যাব

Md Sirazul Islam

ঢাকার মিরপুরে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি, মাদক ও এলাকায় আধিপত্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে জটিল সংঘর্ষের সূত্র রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে র‍্যাব। পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর আজ কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব এ তথ্য জানায়।

র‍্যাব–৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব আলম বলেন, কিবরিয়া এই অঞ্চলের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের পর আগের ঘনিষ্ঠ মহলের বিরোধীদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্র তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।

র‍্যাব জানায়, কিবরিয়ার সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান ওরফে মামুনের সখ্য ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডে মামুনের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছে মনির হোসেন ওরফে পাতা সোহেল এবং মো. সুজন ওরফে বুক পোড়া সুজনকে। পাতা সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ আটটি এবং সুজনের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় পল্লবীর বি ব্লকের একটি হার্ডওয়্যার দোকানে ঢুকে মুখোশধারী তিন সন্ত্রাসী খুব কাছ থেকে গুলি করে কিবরিয়াকে হত্যা করে। পালানোর সময় তাঁরা অটোরিকশাচালক আরিফ হোসেনকে গুলি করে আহত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জনি ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তিকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ বলেছে, কিবরিয়াকে হত্যা করতে জনিকে ভাড়া করা হয়েছিল। হত্যায় জড়িত অন্য দুজনকেও শনাক্ত করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন মিরপুর অঞ্চলে সক্রিয় কথিত ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের সদস্য। এই গ্রুপ চারজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে পরিচালিত হয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তবে পুলিশের দাবি ভিন্ন। তাদের ভাষায়, র‍্যাব যাঁদের গ্রেপ্তার করেছে, তাঁরা আসলে মামুন বাহিনীর সদস্য। আধিপত্য বিস্তার ও আর্থিক লেনদেনের দ্বন্দ্ব থেকেই মামুন বিদেশে বসে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে কিবরিয়াকে হত্যা করিয়েছে।

র‍্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন ওরফে পাতা সোহেল। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে ঘিরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, মনির হোসেন এই অর্থ কোথা থেকে পেলেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page