দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বাবার কবর জিয়ারতে গিয়ে তাকে আবেগাপ্লুত ও অশ্রুসজল অবস্থায় দেখা যায়।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। এরপর দলের প্রতিষ্ঠাতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দলীয়ভাবে দোয়া শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে একান্তে বাবার জন্য দোয়া করেন এবং মোনাজাত শেষে চোখের পানি মুছতে দেখা যায় তাকে।
এ সময় তারেক রহমানের পাশে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারেক রহমান একা কবরের সামনে দাঁড়িয়ে সুরা ফাতেহা ও দরুদ পাঠ করেন এবং পরে আবারও মোনাজাত করেন। রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে দেখা যায় তাকে।
এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৯ বছর পর বিএনপি নেতা হিসেবে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে শ্রদ্ধা জানালেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৬ সালে তিনি শেষবারের মতো শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারেক রহমান সর্বশেষ এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দীর্ঘ নির্বাসনের কারণে এরপর আর আসা সম্ভব হয়নি।
সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনে জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে এবং মানুষ উজ্জীবিত হয়েছে।
তারেক রহমান জিয়া উদ্যানে আসবেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই সেখানে নেতাকর্মীদের ভিড় জমতে থাকে। পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শুক্রবার দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে তারেক রহমানের গাড়িবহর জিয়া উদ্যানের উদ্দেশে রওনা দেয়। আগের দিন বিমানবন্দর থেকে যেই বুলেটপ্রুফ বাসে তিনি এসেছিলেন, সেই বাসেই তিনি শেরেবাংলা নগরে যান। বাসের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। কর্মী সমর্থকদের ভিড়ের কারণে প্রায় আট কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা।
বিকাল ৪টা ৩৬ মিনিটে বাস থেকে নেমে তিনি হেঁটে সমাধিস্থলে যান এবং সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মোনাজাতে অংশ নেন।