March 11, 2026, 7:44 pm

বিদায় নিলেন ‘আপসহীন নেত্রী’: বাংলাদেশের রাজনীতির এক নক্ষত্রের পতন

Sirazul Islam

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ লড়াইয়ের কাণ্ডারি বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শোকের মাতম
মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হাসপাতালে ভিড় জমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল ফটকে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়।
বিকালে দলীয়ভাবে জানানো হয়, বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে নিরাপত্তার খাতিরে হাসপাতালের সামনে মরদেহ দেখার সুযোগ না থাকলেও শোকাতুর মানুষের ভিড় কমেনি। রূপগঞ্জ থেকে আসা সমর্থক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেন, “রাজনীতির এক ক্রান্তিকালে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তিনি ছিলেন আমাদের গণতন্ত্রের মা।”
এক বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামী রাজনৈতিক পথচলা
১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের পর। দলের চরম দুর্দিনে ১৯৮২ সালে তিনি বিএনপির হাল ধরেন।
* স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন: আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার ‘আপসহীন’ ভূমিকা তাকে দেশজুড়ে অসামান্য জনপ্রিয়তা এনে দেয়। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তিনি সাতবার কারাবরণ ও গৃহবন্দী হন।
* রেকর্ড জয়: বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে তিনি এক অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি যতগুলো আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, তার একটিতেও পরাজিত হননি।
* প্রধানমন্ত্রিত্ব ও সংস্কার: ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার শাসনামলে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, মেয়েদের উপবৃত্তি চালু এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরে উন্নীত করার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও শেষ জীবন
২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী নারী তালিকায় ২৯তম স্থান এবং ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট থেকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধি পান তিনি। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এক মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর তিনি সব মামলা থেকে সসম্মানে খালাস পান।
দীর্ঘদিন গৃহবন্দী এবং কারান্তরীণ থাকার ফলে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ রোগভোগের পর এই মহীয়সী নারী চিরবিদায় নিলেন, যার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
আমি কি এই সংবাদের ভিত্তিতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বা দাফন সংক্রান্ত কোনো বিশেষ বিজ্ঞপ্তি বা শোকপ্রস্তাব তৈরি করে দেব?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page