আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক শেখ আবজালুল হক এবার অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি আশুলিয়া থানায় দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে ছয়জনকে গুলি করে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনিও গ্রেপ্তার হন।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২ এ তিনি ২৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। এর আগে পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন আরেকটি জুলাই ঘটনার মামলায় অ্যাপ্রুভার হয়েছিলেন। সেই মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আসামি ছিলেন এবং রায়ে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আশুলিয়ার মামলায় মোট আসামি ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে আটজন পলাতক। বাকিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাবেক সার্কেল এএসপি শহিদুল ইসলাম, ডিবির সাবেক পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, সাবেক এসআই মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
জবানবন্দিতে আবজালুল জানান, ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আশুলিয়ায় ছাত্রজনতার বিজয় মিছিল থানার দিকে এলে তৎকালীন ওসি সায়েদের নির্দেশে বিশ্বজিৎসহ দুইজন গুলি চালান। জেরা চলাকালে তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট তিনি থানার অস্ত্রাগারে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আউয়ালের কাছে তাঁর নামে ইস্যু হওয়া ১০ রাউন্ড গুলিই জমা দেন। ৫ থেকে ১৪ আগস্ট তিনি মানসিকভাবে ট্রমায় ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
জবানবন্দি শেষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, আবজালুল হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিলেও লাশ পোড়ানোর ঘটনা তিনি নিজে দেখেননি, শুধু শুনেছেন। প্রসিকিউশন মনে করছে, তিনি আশুলিয়ার ঘটনাবলী সম্পর্কে পূর্ণ সত্য তুলে ধরেছেন।