March 2, 2024, 3:43 pm

এমপি লতিফের তহবিল ১৫ বছরে ১৩ গুণ বেড়েছে

Reporter Name

চট্টগ্রাম-১১ (হালিশহর-পাহাড়তলী) আসনের তৎকালীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম আবদুল লতিফের গত ১৫ বছরে নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৩ গুন। নির্বাচন কমিশনে তাঁর দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এম আবদুল লতিফ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় নগদ টাকার পরিমাণ উল্লেখ করেছিলেন ১৮ লাখ ৯ হাজার ১২৬ টাকা। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গত ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় নগদ ২ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ৮৬১ টাকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

অর্থাৎ গত ১৫ বছরের ব্যবধানে তাঁর নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ২ কোটি ১৯ হাজার ৭৩৫ টাকা। এই হিসেবে গত ১৫ বছরে এমপি লতিফের নগদ টাকার পরিমান বেড়েছে ১৩ গুনের বেশি।

 

টাকার অংকে পিছিয়ে নেই এই আসনের স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করা জিয়াউল হক সুমনও। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও কোটিপতি।

হলফনামা বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের এমপি লতিফের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমান ছিল ২৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫২ টাকার। সব মিলিয়ে এবার হলফনামায় অস্থবার সম্পদের পরিমান ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০৬ টাকা। সেই হিসেবে ১৫ বছরেরর ব্যবধানে এম এ লতিফিরে অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে ১৮ গুনের বেশি।

এ বছর হলফনামায় লতিফ উল্লেখ করেছেন, তাঁর ৭৮ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও ২৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।আর তাঁর স্ত্রীর নামে ৮০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও ৩০ হাজার টাকার আসবাব সামগ্রী রয়েছে। তিনি ঋণ প্রদান এবং গাড়ি ক্রয়ের জন্য অগ্রিম হিসেবে প্রদান করেছেন ২ কোটি ৭৫ লাখ ১৪ হাজার ৩২২ টাকা। অপরদিকে স্ত্রীর কাছে নগদ আছে ৫২ লাখ ১৯ হাজার ২৩০ টাকা।

 

লতিফ বছরে কৃষিখাত থেকে ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৮৪৭ টাকা, ব্যবসা থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন ২০ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৪ টাকা। শেয়ার থেকে আয় করেছেন ২ হাজার ৩৬৫ টাকা।চাকরি এবং সম্মানি বাবদ আয় করেছেন ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৫ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমান ৪২ লাখ ৪২ হাজার ৬২৩ টাকা ও তাঁর সন্ত্রীর নামে রয়েছে ৭৮ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৭ টাকা। বন্ড ও শেয়ার রয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪০ টাকার। বাস-ট্রাক ভাড়া বাবদ পান ৭ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা।

 

অপরদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগ নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক সুমন বছরে কৃষিখাতে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় করেন বলে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়। বাড়ি, এপার্টমেন্টে ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ব্যবসায় ৩০ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৫ টাকা, শেয়ার ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৩১০ টাকা, সম্মানি দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। নির্ভরশীলদের মধ্যে স্ত্রীর বাৎসরিক আয় কৃষিখাতে ৩৫ লাখ টাকা, ব্যবসায় ৩০ লাখ টাকা, ডিপিএস তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা, অন্যান্য ৯ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে নগদ টাকা ৮৭ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ১৫ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৯ টাকা দেখিয়েছেন সুমন।

এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী ও নিজের নামে গাড়ি আছে চারটি। স্ত্রীর কাছে স্বর্ণ আছে ৪০ হাজার টাকার। নিজের আছে ৬০ হাজার টাকার। নিজের নামে ৯০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চানগাঁও) আসনের আওয়ামী লীগের এমপি নোমান আল মাহমুদ থেকে অর্থবিত্তে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ।

এই আসনের আওয়ামীলীগের এমপি নোমান আল মাহমুদ। তিনি সাত মাস আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৩০ নভেম্বর যে হলফনামা জমা দিয়েছেন , তা বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, নোমান থেকে তাঁর স্ত্রীর নগদ টাকার পরিমান বেশি। তাঁর নগদ টাকার পরিমান ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩১ টাকা। আর তাঁর স্ত্রীর কাছে থাকা নগদ টাকার পরিমান ২৯ লাখ ৭ হাজার ৪১৪ টাকা। এ ছাড়া হলফনামায় ব্যবসা বাবদ আয় দেখিয়েছেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাঁর ৫০ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সোলায়মান আলম শেঠ ব্যবসায়ী। তাঁর কাছে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। প্রিন্টিং ও ট্রেডিং ব্যবসা থাকলেও চাকরি থেকেই বাৎসরিক আয় করেন ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। বাড়ি ও দোকান ভাড়া বাদ পান ১৫ লাখ ৬২ হাজার ২২৪ টাকা।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন বাচ্চুকে লড়তে হবে শিল্পপতি ও সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের সঙ্গে।চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ব্যবসা থেকে তাঁর বাৎসরিক আয় ১৭ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা। আর নিজের কাছে নগদ রয়েছে ১১ লাখ ৩ হাজার ৪৮৪ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৭ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা। চার মাস আগে জমা দেওয়া হলফনামায় স্ত্রীর নগদ টাকা না থাকলেও এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত লাখ তিন হাজার ৫০০ টাকা। একইভাবে চার মাস আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা দেখানো হয়েছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এবার স্ত্রীর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা নেই। স্ত্রীর নামে ৩৫ হাজার টাকার মূল্যের স্বর্ণাংলকার দেখানো হয়েছে। ৩০ হাজার টাকার টিভি, ফ্রিজ ও অন্যান্য সামগ্রী ছাড়াও মহিউদ্দিন বাচ্চুর নামে ৬০ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে এক লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে মহিউদ্দিন বাচ্চুর নিজের নামে তিন কোটি ৫০ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে। স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকার ফ্ল্যাট।

একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি ২০টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, বাৎসরিক আয় কৃষিখাতে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্টে ৭২ লাখ ২২ হাজার ১৫৬ টাকা, ব্যবসায় ২০ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫০ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত ৭৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০২ টাকা, পেশা হতে সম্মানি এক লাখ ৪৪ হাজার টাকা, খালি জায়গার ভাড়া ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬৮ টাকা। মনজুর আলমের নিজ নামে নগদ টাকা ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৩৮ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ৬৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৫ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ৩৮ কোটি ৩৫ লক্ষ ২০ হাজার ২০৬ টাকা।  ১২ লাখ ৩৩ হাজার টাকার স্বর্ণ আছে, চার লাখ আট হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে। অন্যান্যের মধ্যে স্টক ও রিসিলেবল আছে ৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে নগদ আছে ৩৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৭১ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৮৮ হাজার ৬১ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার তিন কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫৬৫ টাকা, স্বর্ণ আছে ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, তিন লক্ষ তিন হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে মনজুর আলমের নিজ নামে কৃষি জমি আছে ২৫ লাখ ৫৩ হাজার ৪২০ টাকা, স্ত্রীর নামে চার লাখ ৮৪ হাজার ২০০ টাকা, দালান আছে নিজ নামে ১১ কোটি ২১ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৩ টাকা। স্ত্রীর নামে এক কোটি ৭৯ লক্ষ ২৮ হাজার ৭১ টাকা, নিজ নামে ৫৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৫ টাকার সম্পদ আছে।

চট্টগ্রাম সনাক সভাপতি আকতার কবির চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হলফনামায় স্বচ্ছতার সহিত তথ্য দিতে প্রার্থীরা বাধ্য। কিন্তু আমাদের দেশে মনিটরিং ঠিকভাবে হয় না। যে কারণে অনেকইে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন। তবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ধরা খেলে তাঁর প্রার্থীতা বাতিল হবে। আইন থাকলেও প্রয়োগ করা হয় না। সঠিকভাবে হলফনামা মনিটিরং করা দরকার সংশ্লিষ্টদের।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page